November 17, 2019, 12:18 pm

গোয়াইনঘাটে বিরল প্রজাতির শঙ্খিনী সাপ উদ্ধার

গোয়াইনঘাটে বিরল প্রজাতির শঙ্খিনী সাপ উদ্ধার

ভিউ ডেক্স::সিলেটের গোয়াইনঘাটে বিরল প্রজাতির একটি শঙ্খিনী সাপ উদ্ধার করে বন বিভাগের কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার স্থানীয় নতুন বাজারে সারী রেঞ্জের আওতাধীন জাফলং বন বিটের লোকজনের কাছে সাপটিকে হস্তান্তর করা হয়।

জানা যায়, গত রোববার ভোরে উপজেলার জাফলংয়ের ছৈলাখেল নবম খন্ড গ্রামের ফরমান সরকারের ছেলে সালমান সরকার (১৯) স্থানীয় ডকা বিলে মাছ শিকারে গিয়ে বিরল প্রজাতির একটি সাপটিকে দেখতে পান। সাপটি দেখতে সুন্দর হওয়ায় সাহস করে তিনি প্রায় সাড়ে পাঁচ ফুট দৈর্ঘের শঙ্খিনী সাপটি ধরে বস্তাবন্দি করে বাড়িতে নিয়ে আসেন। বাড়িতে নিয়ে আসার পর সাপটি তিনি কি করবেন বা কার কাছে দিবেন, ভেবে না পেয়ে নিজের কাছেই রেখে দেন। এরপর থেকে গত পাঁচদিন ধরে তিনি সাপটিকে ডোরা সাপ আর মাছ খাবার হিসেবে দিয়ে আসছিলেন।

বিষয়টি নিয়ে সালমান ও তার বড় ভাই সুমন সরকার গতকাল  গোয়াইনঘাট প্রতিনিধি ও গোয়াইনঘাট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন’র শরণাপন্ন হন। বিষয়টি জানার পর তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সারী রেঞ্জের কর্মকর্তা মো. সাদ উদ্দিনকে অবহিত করেন। পরে সারী রেঞ্জের ওই কর্মকর্তার নির্দেশে জাফলং বনবিটের লোকজন এসে সাপটিকে উদ্ধার করে নিয়ে যান।

এ ব্যাপারে ওই যুবকের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমি মাছ শিকারে গিয়ে বিরল প্রজাতির ওই সাপটিকে ধরে একটি ব্যাগের ভিতরে ভরে বাড়িতে নিয়ে আসি। পরে সকাল বেলা ব্যাগ থেকে কৌশলে সাপটিকে বের করে পানিসহ কিছু খাবার খাওয়ানোর চেষ্টা করি। যখন দেখলাম সাপটি খাবারের প্রতি আগ্রহী, তখন মাছ ও ছোট ডোরা সাপ এনে তাকে খাবার দেই। এভাবেই পাঁচদিন ধরে সাপটিকে আমি লালন পালন করে আসছিলাম।
সারী রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. সাদ উদ্দিন জানান, বিরল প্রজাতির শঙ্খিনী সাপটিকে উদ্ধার করে অবমুক্ত করার জন্য সিলেট খাদিম নগর জাতীয় ঊদ্যানে পাঠানো হয়েছে।

 

উইকিপিডিয়ার তথ্য সূত্রে জানা গেছে, এই সাপটির আভিধানিক নাম হচ্ছে শঙ্খিনী বা ভোতালেজ কেউটে বা ডোরা কাল কেউটে। বৈজ্ঞানিক নাম হচ্ছে এলাপিডি পরিবারভুক্ত এক প্রকার বিষধর সাপ। এই প্রজাতির সাপটি সচরাচর দেখা না গেলেও ভারতীয় উপমহাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ায় এর বিস্তৃতি রয়েছে। এটি কেউটে সাপের মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘ এবং এর সর্বো”চ দৈর্ঘ্য হতে পারে ২.১ মিটার বা ৬ ফুট ১১ ইঞ্চি পর্যন্ত।

 

বাংলাদেশের পরিবেশ উপযোগী অন্যতম সুন্দর একটি সাপ হচ্ছে শঙ্খিনী সাপ। এর শান্ত স্বভাবের কারণে যারা সাপ সম্পর্কে ধারণা রাখেন তাদের কাছে এটি বেশ প্রিয়। অতি সুন্দর ও চমৎকার রঙে সজ্জিত এই সাপের মাথা আকারে খানিকটা বড়। সারা শরীরজুড়ে কালো ও হলুদ ডোরা। খুব বিষধর হলেও দেশের ইতিহাসে শঙ্খিনী সাপের দংশনে মানুষ মারা যাওয়ার ইতিহাস নেই।তবে এই সাপ যে এলকায় থাকে অন্যান্য সাপ সাধারণত সে এলাকায় থাকে না কারণ অন্য প্রজাতির সাপ এদের প্রিয় খাদ্য।

নিশাচর শঙ্খিনী সাপ কেউটে, গোখরা, কালাচসহ অন্যান্য বিষাক্ত সাপকে খেয়ে ফেলে। এদের ভয়ে অন্য সাপ পালিয়ে যায়।আইইউসিএন এর পক্ষ থেকে এই সাপকে বাংলাদেশে বিপন্ন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানা যায়।

নিউজটি শেয়ার করুন




Copyright By: Jaflong View
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ